যুদ্ধে হবে ফিরে দেখা
ফকরুল চৌধুরী
দিবস রজনী শেষ হয়ে গেলে
মানুষ টুপ-টাপ হাওয়ার গল্প এঁটে
ধীরে ধীরে চলে যায় অন্তরগত ছায়ায়।
-মাহবুব কামরান
বিপ্লবী ও রোমান্টিক জীবনের কবি নাজিম হিকমত
ভূমিকা ও ভাষান্তর : মাহবুব কামরান
জীবনমুখী সংগ্রামের ব্রতি হয়েই জনমানুষের কাছে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়েই নাজিম হিকমত গড়ে ওঠেছেন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। তার শানিত কলম, তার পদ্যের ব্যবহার, তুরস্কের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী বিরোধী বার্তাবরণ। মানুষের স্বাধীনতা চেয়েছেন আজীবন। নাজিম মানে সংগ্রাম, সমুদ্রের গর্জন আর জনমুক্তির অঙ্গীকার। নাজিম মানে এক আশ্চর্য সময়ের আকাশ, যেখানে গভীর রাতের কবিতার ভেতর উঁকিঝুঁকি দেয় নানামুখী বোধের শিকড়। নিপিড়িত মানবতার বৈষয়িক মুক্তি আর আত্মিক মুক্তির বিপ্লবী উলগুলান নিয়েই জাগিয়ে তোলেন কবিতার প্রতীকী মাতন- যা সমকালের সবচেয়ে বয়ে যাওয়া নতুন কবিতার হাতছানি।
আপনি যখন অ্যামেরিকায়
চিমানদা নগোজি আদিচি
আপনার ধারণা ছিল অ্যামেরিকাতে সবারই গাড়ি আর বন্দুক থাকে। আপনার কাজিন ও আত্মীয়-স্বজনদেরও তাই ধারণা। অ্যামেরিকার ডিভি লটারি জেতার পরই তারা আপনাকে বলেছিল, ওইখানে একমাসের মধ্যেই তোমার গাড়ি হইবো, তারপর বিরাট বাড়ি কিন্তু ওই আমেরিকানগো মতো আবার বন্দুক কিনতে যাইও না ।
তারা লাওসের বস্তিঘরে আপনার চারপাশে জড়ো হয়ে নোনাধরা পেরেক লাগানো দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়িঁয়ে ছিল, কারণ চেয়ারে বসে ইচ্ছেমতো নড়াচড়া করা যায় না, চেচিয়ে বিদায় জানানো যায় না এবং বড় কথা হলো, ফিসফিসিয়ে তাদের জন্য অ্যামেরিকা থেকে কী কী পাঠাতে হবে তা বলা যায় না। বড়সড় গাড়ি আর বিরাট বাড়ির (এবং বন্দুকের) কাছে তাদের চাওয়াটা কিছুই না- হাতব্যাগ, জুতার মতো সামান্য জিনিস মাত্র। আপনি বলেছিলেন, ঠিক আছে, কোনো ব্যাপার না ।
এডওয়ার্ড সাইদ ও উত্তর-ঔপনিবেশিক কাউন্টার-ডিস্কোর্স
| উত্তর-ঔপনিবেশিক সমাজ - উত্তর-ঔপনিবেশিক সমাজ |
ফকরুল আলম
১.
ঔপনিবেশিকতার যে কোন ছাত্রের কাছে Orientalism গ্রন্থটির প্রাসঙ্গিকতা স্পষ্ট। এ বইতে সাইদ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যে, পশ্চিমা প-িতরা বহুকাল ধরে তাঁদের জ্ঞানকে ভাড়া খাটাচ্ছেন শক্তিধর পাশ্চাত্যপ্রভুদের কাছে; তারা এমন একটি ডিসকোর্সে নিয়োজিত যার উদ্দেশ্য Ôdominating, restructuring, and having authority over the OrientÕ (Orientalism, 3) পা-িত্য প্রাচ্যের, ঔপনিবেশিকরণের হাতিয়ার হয়েছে, আর ডিফো থেকে ডিসরেলি-তক সকল পাশ্চাত্য শিল্পী-বুদ্ধিজীবী স্বেচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক, শোষণ-সংদমনের প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। তদুপরি তারা এমন একটি প্রাচ্যের ধারণা গড়ে তুলেছেন যা হচ্ছে ÔotherÕ, এবং এভাবে প্রাচ্যের মানুষ সম্পর্কে কিছু আপ্ত বিরূপ ধারণার স্থায়ীকরণের সহায়তা করেছেন। সাহিত্যতত্ত্বে সাইদের সাম্প্রতিক কাজ থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর মতে প্রাচ্যবিদদের অধীত এবং নিয়োজিত জ্ঞান ছিল আধিপত্যবাদী ( hegemonic) এবং তাঁরা যেসব সত্য ( truths) ফেরী করে বেড়িয়েছেন তা তাঁদের ইচ্ছাপূরণের বাগাড়ম্বর ছাড়া বেশি কিছু নয়।
ইতালীর পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্য
| প্রতিরোধ - প্রতিরোধ |
অনুবাদ : জিয়াউল হক বাবলু
বক্তব্য প্রদানের তারিখ : ১৬ মে ১৯২৫
উৎস : Gramsci Antonio, Contro la legge shule associazion Segrete 1997 Manifiestolibri
স্পিকার : মাননীয় সদস্য গ্রামশি আপনি এবার বক্তব্য পেশ করতে পারেন।
গ্রামসি : এই হাউজে ‘গোপন সংঘগুলো’র বিরুদ্ধে যে আইন প্রণয়নের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ‘মুক্তচিন্তার ভ্রাতৃ সভাগুলো’র বিরুদ্ধেই যেন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি হচ্ছে ফ্যাসিজম-এর প্রথম সুস্পষ্ট প্রকাশ্য আচরণ। এবং এ আচরণ দ্বারা তাদেরকে মূল্যায়ন করা যায় যারা ফ্যাসিজমকে বলছে বিপ্লব। আমরা কমিউনিস্ট পার্টি হিসেবে এ-আইন উপস্থাপনের শুধু কারণ ব্যাখ্যা করতে চাইনা, আরও বলতে চাই এর অর্থ; কেন এই ফ্যাসিস্ট পার্টি’ সরাসরি মুক্তচিন্তার সভাগুলোর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে এ আইন প্রণয়ন করছে।
অল্প কয়েকজনের মধ্যে আমরা ফ্যাসিজম-কে খুব গুরত্বসহকারে নিয়েছি। যেখানে ফ্যাসিজম জঘন্যতম প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। যেখানে ফ্যাসিজমকে ‘যুদ্ধ বাজ উন্মাদ” আখ্যায়িত করে আলোচনা হয়েছে, তখন সকল পাটি শ্রমিক-জনতাকে খুব অল্প সময়ের জন্য শান্ত করার জন্য ফ্যাসিজমকে একটি বাহ্যিক প্রপঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

